বুধবার, ২৯ মে, ২০২৪

পা ব্যাথা (পার্ট - ৪)

পা মানব শরীরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। যার পা নেই সেই বুঝে পায়ের মর্মকথা। পায়ের গোড়ালিতে যেসব কারণে ব্যথা হয় তার মধ্যে প্লান্টার ফ্যাসাইটিস বেশি দায়ী। পায়ের পাতার নিচে যে প্লান্টার ফাসা নামে মোটা পর্দা রয়েছে, তাতে প্রদাহ হলে এই সমস্যা হয়। 

পা ব্যাথা


দৌড়োনো, চলাফেরা, যেকোনো ধরনের নৃত্য বা ফুটবলের মতো খেলাধুলোর সময় এই সমস্যাটির সৃষ্টি হয়।
গোড়ালির মোটা পর্দা বা ব্যান্ড আকৃতির কলায় নানা কারণেই প্রদাহ হতে পারে। সাধারণত ৪০ থেকে ৬০ বছর বয়সীদের বেশি হয় এই সমস্যা।পায়ের গোড়ালিতে ব্যথা হলে, বিশেষ করে সকালে ঘুম থেকে উঠে মেঝেতে পা ফেলতে সমস্যা হলে চিকিৎসকেরা তখন একে প্লান্টার ফ্যাসাইটিস বলে থাকেন।
এক জায়গায় অনেক ক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলেও প্ল্যান্টার ফ্যাসিটিস হতে পারে। প্ল্যান্টার ফ্যাসিটিস-এর ফলে পায়ের গোড়ালিতে মারাত্মক যন্ত্রণা হয়। যাদের পায়ের তলা সমতল বা ওজন বেশি, তাদের মধ্যে এই রোগের ঝুঁকি বেশি। বয়ষ্ক মহিলাদের মধ্যেও প্ল্যান্টার ফ্যাসিটিস লক্ষ্য করা যায়।দীর্ঘদিন এই সমস্যা চলতে থাকলে পায়ের তলায় স্পার বা কাঁটার মতো হাড় বৃদ্ধি হয়। তাকে ডাক্তারি ভাষায় ক্যালকেনিয়াল স্পার বলা হয়।

→ প্ল্যান্টার ফ্যাসিটিস কী?

পায়ের নিচে একটি তুলতুলে (পেশি তন্তু) টিসু থাকে, যেটির নাম প্ল্যান্টার ফাসা। এই পেশি তন্তুগুলো গোড়ালির সঙ্গে পায়ের আঙুলগুলির সংযোগ স্থাপন করে রাখে। প্ল্যান্টার ফাসা  কোনো কারণে আক্রান্ত হলে বা কোন ককারনে প্রদাহের সৃষ্টি হলে যে সমস্যা তৈরি হয় তাকে প্ল্যান্টার ফ্যাসিটিস বলা হয়।

গোড়ালির হাড়ে ক্যালসিয়াম জমা হলে প্ল্যান্টার ফ্যাসিটিস হতে পারে। প্ল্যান্টার ফ্যাসিটিসে আক্রান্ত হলে সকাল বেলা ঘুম থেকে উঠে মাটিতে পা ফেলতে সমস্যা হতে পারে। তবে দীর্ঘ ক্ষণ পর তা ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে যায়।

→ কেন হয় গোড়ালি ব্যথা?

গোড়ালির মোটা পর্দা বা ব্যান্ড আকৃতির কলায় নানা কারণেই প্রদাহ হতে পারে। সাধারণত ৪০ থেকে ৬০ বছর বয়সীদের বেশি হয় এই সমস্যা। এ ছাড়া কিছু বিষয় এর ঝুঁকি বাড়ায়। যেমন:

—দীর্ঘ সময় ধরে গোড়ালিতে চাপ পড়ে এমন কোনো কাজ এর ঝুঁকি বাড়ায়। যেমন ব্যালে নাচ, ম্যারাথন দৌড় বা অ্যারোবিক নাচ।
—অতি ওজন বা স্থূলতা পায়ের ওপর অতিরিক্ত ভরের সৃষ্টি করে। এই চাপ গিয়ে পড়ে পায়ের পাতার কলাসমূহের ওপর। ফলে শুরু হতে পারে ব্যথা।


—কারও কারও পায়ের বাঁক অস্বাভাবিক থাকে, তাঁরাও এই ঝুঁকির মধ্যে পড়েন।
—যাঁরা দিনের বেশির ভাগ সময় দাঁড়িয়ে কাজ করেন, যেমন কারখানার শ্রমিক, শিক্ষক—তাঁদেরও দীর্ঘ সময় গোড়ালিতে ওজন নেওয়ার কারণে প্রদাহ হতে পারে। খালি পায়ে শক্ত কাজ করাও ভালো নয়।

→ এবার জেনে নেওয়া যাক প্ল্যান্টার ফ্যাসিটিসের সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে করণীয়:

১. সঠিক মাপের জুতো পরুন: সামান্য হিল বা ফিতে বাঁধা জুতো পরুন। হাই হিল বা একেবারে ফ্ল্যাট জুতো বা চটি পরবেন না। স্বাভাবিকভাবে পা পেতে হাঁটতে সমস্যা হয়, এমন কোনো জুতোই পরবেন না।

২. আইস প্যাক: দীর্ঘ ক্ষণ হাঁটা বা দাঁড়িয়ে থাকা থেকে বিরত থাকুন। স্বাভাবিক গতিতে হাঁটার চেষ্টা করুন। প্ল্যান্টার ফ্যাসিটিস-এর যন্ত্রণা শুরু হলে কিছু ক্ষণ বিশ্রাম করার পর, পায়ের তলায় আইস প্যাক দিয়ে মালিশ করুন অন্তত ১৫ মিনিট। উপকার পাবেন।

৩. আয়ুর্বেদিক প্রতিকার: আদা, রসুন, হলুদ বা সবুজ শাক-সবজি প্ল্যান্টার ফ্যাসিটিস-এর সমস্যা নিয়ন্ত্রণে আনতে সাহায্য করে।

বরগুনার আলো

পা ব্যাথা (পার্ট - ৩)

আমাদের শরীরের সমস্ত ভার পায়ের গোড়ালি দিয়ে মাটিতে স্থানান্তরিত হয়, যা আমাদেরকে সহজে হাঁটাচলা করতে সাহায্য করে। অনেকেই পায়ের গোড়ালির ব্যথায় ভোগেন, যার মধ্যে প্লান্টার ফ্যাসাইটিস অথবা ক্যালকেনিয়াম স্পার (গোড়ালির হাড়ের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি) প্রধান কারণ। এই অবস্থায়, সকালে বিছানা থেকে উঠে প্রথম পা মাটিতে রাখলে গোড়ালিতে তীব্র ব্যথা হয়। হাঁটার সময়, পায়ের নিচে যেন সুচ বা পিন ফুটছে বা খোঁচা লাগছে এমন অনুভূতি হয়। তবে একটু হাঁটার পরে ব্যথা সামান্য কমে যায়।

পা ব্যাথা


যেসব কারণে হতে পারে গোড়ালি ব্যথা

গোড়ালি ব্যথার সম্ভাব্য কারণ বুঝতে হলে আমাদের পায়ের গঠনতাত্ত্বিক বিবেচনা করা প্রয়োজন। পায়ের সামনের অংশ অনেকগুলো ছোট ছোট হাড় দিয়ে গঠিত এবং পেছনের গোড়ালিতে থাকা বড় হাড়টি ক্যালকানিয়াস নামে পরিচিত। এই হাড়গুলোকে একত্রিত করে রাখে বেশ কিছু লিগামেন্ট। পায়ের গোড়ালি থেকে পায়ের আঙুলের দিকে যে শক্ত টিস্যু ব্যান্ড প্রসারিত হয়, তাকে প্লান্টার ফ্যাসা বলা হয়, যা শরীরের ওজন সমবন্টন এবং শক শোষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

প্লান্টার ফাসাইটিস: গোড়ালি ব্যথার এক প্রধান কারণ হলো প্লান্টার ফাসাইটিস, যা পায়ের প্লান্টার ফ্যাসিয়ার প্রদাহ বা ক্ষত হলে ঘটে। পায়ের এই টিস্যু ব্যান্ডটিতে দীর্ঘমেয়াদী চাপের ফলে ক্ষত সৃষ্টি হতে পারে। শুরুতে ব্যথা কম থাকলেও সময়ের সাথে সাথে এবং নিয়মিত ব্যবহারে ব্যথা তীব্র হয়ে উঠতে পারে। এটি বিশেষ করে বেশি লক্ষ্য করা যায় দীর্ঘক্ষণ বিশ্রামের পর বা সকালে প্রথম পা মাটিতে রাখার সময়।

ক্যালকেনিয়াম স্পার (গোড়ালির নিচের হাড়ের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি): গোড়ালির হাড়ে (ক্যালকানিয়াস) অতিরিক্ত ক্যালসিয়াম জমা হয়ে এক ধরনের তীক্ষ্ণ, সূচালো প্রবৃদ্ধি তৈরি করতে পারে, যা গোড়ালির নিচের মাংসপেশি, ফাসা, লিগামেন্ট, ও অন্যান্য টিস্যুগুলিতে চাপ প্রয়োগ করে। হাঁটাচলা বা পায়ের পাতায় ভর দেওয়ার সময়, এই চাপ তীব্র ব্যথা সৃষ্টি করে যা গোড়ালি ব্যথার অন্যতম কারণ।

গাটে বাত: যখন রক্তের ইউরিক এসিডের মাত্রা বেড়ে যায়, তখন পায়ের গোড়ালি, বিশেষ করে বুড়ো আঙুলের গোড়া এবং এর চারপাশের জয়েন্টগুলিতে প্রদাহ হতে পারে, যা গোড়ালির ব্যথার একটি প্রধান কারণ হিসেবে কাজ করে।

সেভার্স ডিজিস: সেভার্স ডিজিজ মূলত বাল্য ও কিশোর বয়সীদের মধ্যে দেখা যায়, যেখানে গোড়ালির গ্রোথ প্লেটে মাইক্রো ট্রমা ঘটে, এতে গোড়ালির ব্যথা সৃষ্টি হয়। এই রোগটি বিশেষত ৭ থেকে ১৫ বছর বয়সী শিশুদের মধ্যে বেশি দেখা যায়।

অ্যাকিলিস টেন্ডিনাইটিস: আমাদের কাফ মাসলগুলি অ্যাকিলিস টেন্ডনের মাধ্যমে গোড়ালির সাথে যুক্ত থাকে। যখন এই টেন্ডনটি অত্যধিক ব্যবহার বা চাপের মুখে পড়ে, তখন তাতে প্রদাহ সৃষ্টি হয় যা গোড়ালির ব্যথাকে উদ্দীপিত করে।

টারসাল টানেল সিনড্রোম: টারসাল টানেল সিনড্রোম হল এক ধরনের রোগ যেখানে গোড়ালির মধ্য দিয়ে যাওয়া নার্ভে ট্রমা বা দীর্ঘমেয়াদী চাপ সৃষ্টি হবার ফলে গোড়ালিতে ব্যথা অনুভূত হয়।

পায়ের লিগামেন্ট ইঞ্জুরি (পা মচকানো):পায়ের লিগামেন্ট ইঞ্জুরি বা পা মচকানো হল যখন পায়ের লিগামেন্টগুলি অত্যধিক চাপ বা আঘাতের কারণে প্রসারিত বা ছিঁড়ে যায়। এই ধরনের ইঞ্জুরি প্রায়ই গোড়ালিতে ব্যথা, ফুলে যাওয়া, এবং যন্ত্রণার সৃষ্টি করে।

হাড় ভাঙ্গা (ফ্র্যাকচার):গোড়ালির হাড়ের ফ্র্যাকচার বা হাড় ভাঙ্গা তখন ঘটে যখন অত্যধিক ব্যায়াম, খেলাধুলা বা হাঁটাচলার ফলে গোড়ালির হাড়ে প্রচুর চাপ পড়ে। এই চাপের কারণে হাড়ে চিড় বা ফাটল পারে। যারা প্রচুর দৌড়ানো বা তীব্র শারীরিক ক্রিয়াকলাপে অংশ নেন, তাদের মধ্যে গোড়ালির ফ্র্যাকচারের ঝুঁকি বেশি এবং এর ফলে গোড়ালিতে ব্যথা হতে পারে।

৯. হাড়ের ক্ষয়:অস্টিওপোরোসিস বা হাড়ের ক্ষয়ের কারণে গোড়ালিতে ব্যথা সৃষ্টি হতে পারে। এই অবস্থায় হাড়ের ঘনত্ব হ্রাস পায় এবং তারা দুর্বল ও ভঙ্গুর হয়ে পড়ে, যা গোড়ালির ব্যথা এবং অন্যান্য সমস্যার কারণ হতে পারে।

আরও পড়ুনঃ হাঁটু ব্যথার কার্যকরী ব্যায়াম

যারা গোড়ালি ব্যথার ঝুঁকিতে থাকেন

গোড়ালি ব্যথার কারণ নানাবিধ এবং কিছু ঝুঁকি সম্পর্কিত ফ্যাক্টর আছে যেগুলি এর প্রকোপ বৃদ্ধি করে:

  1. ৪০ থেকে ৬০ বছর বয়সের মধ্যে ব্যক্তিদের মধ্যে গোড়ালি ব্যথা সাধারণত বেশি হয়।
  2. জন্মগত ফ্ল্যাট ফুট বা উঁচু আর্চের পা থাকলে গোড়ালিতে অধিক চাপ পড়ে।
  3. দীর্ঘকাল শক্ত সোলের জুতা বা হাই হিল পরলে গোড়ালির উপর চাপ বেড়ে যায়।
  4. কাফ মাসেলের অতিরিক্ত টাইটনেস গোড়ালি ব্যথা বাড়াতে পারে।
  5. স্থূলতার কারণে গোড়ালিতে চাপ বেশি পড়ে।
  6. নারীদের গোড়ালি ব্যথা বেশি হতে পারে, বিশেষ করে গর্ভাবস্থায়।
  7. যারা দীর্ঘসময় দাঁড়িয়ে থেকে কাজ করেন সেসকল পেশাজীবীদের গোড়ালি ব্যথা হতে পারে।
  8. আর্থাইটিস, এনকাইলোজিং স্পন্ডিলাইটিস, অস্টিওকন্ড্রসিস, এবং ডায়াবেটিসের জন্য গোড়ালি ব্যথা হতে পারে।
  9. পেলভিস পোস্টেরিয়র টিল্টের কারণে গোড়ালি ব্যথা হতে পারে।
  10. কোমরের পেশীর ভারসাম্যহীনতা, পেলভিস ডেভিয়েশন, নকনি, পায়ের প্রানেশন এবং সুপাইনেশন, এবং পেশীর ভারসাম্যহীনতা গোড়ালি ব্যথার একটি কারণ হতে পারে।

গোড়ালি ব্যথা থেকে বাঁচতে যেসব বিষয়ের উপর লক্ষ্য রাখা উচিত:

  • সঠিক ওজন বজায় রাখতে হবে যাতে পায়ের উপর অতিরিক্ত চাপ না পড়ে।
  • আরামদায়ক, সঠিক মাপের এবং শক্তি শোষণ ক্ষমতাসম্পন্ন জুতো পরিধান করা উচিত। শক্ত চপ্পল বা উচ্চ হিলের জুতো এড়িয়ে চলতে হবে।
  • অতিরিক্ত হাঁটা বা দাঁড়ানো থেকে বিরত থাকা এবং অসমতল জমিতে হাঁটাচলা করা এড়ানো উচিত।
  • খালি পায়ে কঠিন মেঝেতে চলাচল না করা এবং অতিরিক্ত উঁচু-নিচু পৃষ্ঠে পদচারণা এড়ানো উচিত।
  • শরীরে ভিটামিন ডি এবং ই-এর সঠিক মাত্রা নিশ্চিত করতে হবে।
  • ডায়েটে শাক-সবজি, ফলমূল এবং সামুদ্রিক মাছ যুক্ত করে নিয়মিত ও সুষম খাদ্যাভ্যাস অনুসরণ করা গুরুত্বপূর্ণ।

গোড়ালি ব্যথার জন্য কখন ডাক্তার দেখাবেন

যে সকল অবস্থায় গোড়ালি ব্যথার জন্য অবিলম্বে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিত:

  • যদি পায়ের পাতা বা গোড়ালি ফুলে যায়।
  • গোড়ালি ব্যথা সহ জ্বর হলে বা গোড়ালি ব্যথার কারণে জ্বর হলে।
  • গোড়ালি অবশ বা অনুভূতি হারালে।
  • হাঁটাচলার সময় পা ভাঁজ করতে বা মুভ করতে সমস্যা হলে।
  • পায়ের পাতায় ভর দিয়ে দাঁড়ানোতে কষ্ট হলে।
  • যদি গোড়ালি ব্যথা সাত দিনের বেশি স্থায়ী হয় এবং চলাফেরা ছাড়াও নিয়মিত ব্যথা হয়।
  • কাফ মাসেলে প্রচন্ড ব্যথা ও ফোলা ভাব দেখা দিলে।

এই উল্লিখিত লক্ষণগুলি দেখা দিলে অবিলম্বে একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সাথে পরামর্শ করা উচিত।


গোড়ালি ব্যথায় চিকিৎসা পদ্ধতি

গোড়ালি ব্যথার নিরাময়ের জন্য বিভিন্ন চিকিৎসা পদ্ধতি বিদ্যমান, যেমন ট্রিগার পয়েন্ট ইনজেকশন, ইনফিল্ট্রেশন, প্লেটলেট-রিচ প্লাজমা (পিআরপি) থেরাপি এবং ফিজিওথেরাপি। বর্তমানে, ফিজিওথেরাপি গোড়ালি ব্যথা উপশমে একটি জনপ্রিয় পদ্ধতি হয়ে উঠেছে। একজন দক্ষ ফিজিওথেরাপিস্ট রোগীর শারীরিক পরীক্ষা, এক্স-রে, এবং রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে সঠিকভাবে রোগ নির্ণয় করেন এবং উপযুক্ত চিকিৎসা প্রদান করেন। নিয়মিত কয়েক সপ্তাহ ফিজিওথেরাপি সেশনের মাধ্যমে গোড়ালি ব্যথা থেকে সাধারণত উল্লেখযোগ্য স্বস্তি পাওয়া যায়।

প্রাথমিক চিকিৎসা

  • আক্রান্ত পায়ে পর্যাপ্ত বিশ্রাম দিন।
  • আক্রান্ত অংশে দিনে দুই থেকে তিনবার ১০ মিনিট করে বরফ লাগান।
  • ইনজুরির স্থানে কম্প্রেশন ব্যান্ডেজ প্রয়োগ করুন, যা সেই অংশের রক্তপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করে এবং ফুলে যাওয়া কমাতে সাহায্য করে।
  • আক্রান্ত পা উচুঁ করে রাখুন যাতে ফোলা কমে এবং রক্ত সঞ্চালন ভালো হয়।
  • ব্যথা ও প্রদাহ নিরাময়ে ননস্টেরয়েডাল এন্টি-ইনফ্লামেটরি ড্রাগস (যেমন: প্যারাসিটামল) গ্রহণ করুন।
  • যে সব জুতা পরলে গোড়ালিতে কম চাপ পড়ে এবং যাতে আরামদায়ক ইনসোল বা হিল প্যাড থাকে, সেগুলি পরিধান করুন।

দীর্ঘ মেয়াদী ব্যথার চিকিৎসা

গোড়ালি ব্যথার জন্য প্রাথমিক চিকিৎসা ও সতর্কতা গ্রহণ করেও যদি ব্যথা কমে না, তাহলে একজন দক্ষ চিকিৎসক বা ফিজিওথেরাপিস্টের পরামর্শ অনুসারে আরও উন্নত চিকিৎসা নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।

ফিজিওথেরাপি: ফিজিওথেরাপি এই ধরনের ব্যথার জন্য খুবই কার্যকরী চিকিৎসা পদ্ধতি হতে পারে। বিভিন্ন ধরনের ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা পদ্ধতি যেমন আলট্রাসাউন্ড থেরাপি, প্যারাফিন ওয়াক্স বাথ, ডিপ ট্রান্সভার্স ফ্রিকশন ম্যাসেজ, স্ট্রেচিং ও স্ট্রেঙ্থেনিং প্রোগ্রাম, এবং টেপিং গোঁড়ালি ব্যথায় সাহায্য করতে পারে।

এছাড়াও, ব্যথা কমাতে এবং গোঁড়ালির স্বাস্থ্য উন্নত করতে নিয়মিত কিছু এক্সারসাইজ অত্যন্ত প্রয়োজন। এই এক্সারসাইজগুলি ঘরে বসেই সহজেই করা যায়। নিচে কিছু এক্সাসাইজের বিস্তারিত বর্ণনা দেওয়া হল:

  1. ফিতা বা তোয়ালে দিয়ে পায়ের পাতা টানা: ফ্লোরে বা চেয়ারে বসুন, এক পা সোজা রাখুন এবং হাঁটু লক করুন। এরপর একটি ফিতা অথবা তোয়ালে নিয়ে পায়ের পাতার সামনের অংশে আটকে দুই হাত দিয়ে হালকা চাপে টানুন এবং ৩০ সেকেন্ড ধরে রাখুন। এটি দিনে ৩-৪ বার ১০ বার করে করুন।
  2. বরফে ভরা বোতল দিয়ে রোলিং: একটি আধা লিটার পানির বোতল বরফে ভরে ফ্রিজে রাখুন যাতে বরফ জমে যায়। তারপর পায়ের নিচে রেখে বোতলটি রোল করুন ৩০ সেকেন্ড ধরে। এটি দিনে ৩-৪ বার করুন।
  3. টেনিস বল দিয়ে রোলিং: একটি টেনিস বল নিয়ে পায়ের গোঁড়ালি থেকে পাতা পর্যন্ত ১৫-২০ বার রোল করুন। এটি দিনে ৩-৪ বার করুন।
  4. পায়ের পাতায় ম্যাসেজ: হাত দিয়ে পায়ের পাতায় ম্যাসেজ করুন, কেন্দ্র থেকে বাহিরের দিকে আস্তে আস্তে চাপ দিয়ে। এটি দিনে ৩-৪ বার করুন।
  5. সিঁড়িতে বা দেয়ালের কাছে দাঁড়ানো: সিঁড়িতে পায়ের পাতার সামনের দিকের অংশ রেখে বাকি অংশ বাইরে রাখুন এবং যে কোনো এক পায়ের উপর ভর দিয়ে দাঁড়ান ৩০ সেকেন্ড ধরে। অথবা দেয়ালের কাছে দাঁড়িয়ে গোঁড়ালি তুলে পায়ের বৃদ্ধাঙ্গুলের উপর ভর করে দাঁড়ান এবং ৩০ সেকেন্ড ধরে রাখুন। এটি ১০ বার করে দিনে ৩-৪ বার করুন।
  6. মাটি স্পর্শ করে বসা: দুই হাত দুই পাশে মাটিতে স্পর্শ করে এক হাঁটু মুড়ে বসুন এবং যে পায়ের গোঁড়ালিতে ব্যথা অনুভব হয় সেই পায়ের পাতা মাটিতে রেখে গোঁড়ালি কিছুটা উঁচু করে বসুন। এভাবে ৩০ সেকেন্ড থাকুন এবং আস্তে আস্তে পিছনের অংশ দিয়ে পায়ের উপর চাপ কমাতে হবে। যদি হাটু অথবা কোমরে ব্যথা অনুভব হয়, তাহলে জোর করে এই ব্যায়াম করা উচিত নয়।

ট্রিগার পয়েন্ট ইনজেকশন: যদি গোড়ালির ব্যথা এতটাই তীব্র হয় যে তা দৈনন্দিন জীবনের কার্যক্রমে বাধা দেয়, তবে ট্রিগার পয়েন্ট ইনজেকশনের মাধ্যমে স্টেরয়েড ব্যবহার করে অস্থায়ীভাবে ব্যথা হ্রাস করা সম্ভব। তবে, স্টেরয়েড প্রয়োগের আগে এর সম্ভাব্য পার্শ্ব প্রতিক্রিয়াগুলি বিবেচনা করা অত্যন্ত জরুরি।

পিআরপি: পিআরপি, যার পূর্ণ রূপ হল প্লেটলেট-রিচ প্লাজমা, একটি উন্নত ও আধুনিক চিকিৎসা প্রক্রিয়া। এই পদ্ধতিতে, রোগীর নিজের রক্ত থেকে প্লেটলেটসমৃদ্ধ প্লাজমা পৃথক করা হয় এবং তারপর আক্রান্ত এলাকায় ইনজেক্ট করা হয়। এতে বিদ্যমান গ্রোথ ফ্যাক্টরগুলি ক্ষতিগ্রস্ত টিস্যুর মেরামত এবং পুনর্নির্মাণে সাহায্য করে। বিশেষ করে দীর্ঘমেয়াদি প্লান্টার ফ্যাসাইটিস সমস্যায় পিআরপি থেরাপি অত্যন্ত কার্যকরী। এটি একটি স্থায়ী সমাধান প্রদান করে যদিও এর খরচ অন্যান্য চিকিৎসার তুলনায় বেশি হতে পারে।

ব্যথা আমাদের শারীরিক ও মানসিক সুখ-শান্তির জন্য এক বড় বাধা। এটি আমাদের দৈনিক জীবনের নানান কাজে বিঘ্ন ঘটায়। সুতরাং, ব্যথার মুক্তি পেতে এবং একটি সুস্থ ও সুন্দর জীবন যাপন করতে আমাদের আগে থেকেই সচেতন ও সতর্ক হতে হবে। একটু সচেতনতা ও সতর্কতার মাধ্যমে আমরা ব্যথামুক্ত জীবন যাপন করতে পারি।

তথ্যসূত্রঃ

  1. NHS. “Heel Pain”
  2. Cleveland Clinic. Heel Pain
  3. Mayo Clinic. Symptoms-Heel Pain
  4. Beeson, P., 2014. Plantar fasciopathy: revisiting the risk factors. Foot and Ankle Surgery, 20(3), pp.160-165. https://www.sciencedirect.com/science/article/pii/S126877311400040X
  5. Goff, J.D. and Crawford, R., 2011. Diagnosis and treatment of plantar fasciitis. American family physician, 84(6), pp.676-682. https://www.aafp.org/pubs/afp/issues/2011/0915/p676.html
  6. Cutts, S., Obi, N., Pasapula, C. and Chan, W., 2012. Plantar fasciitis. The Annals of The Royal College of Surgeons of England, 94(8), pp.539-542. https://publishing.rcseng.ac.uk/doi/abs/10.1308/003588412X13171221592456




পা ব্যাথা (পার্ট - ১)

 দীর্ঘ দিন ধরে পা ব্যাথায় করণীয় কিছু পরামর্শ নিচে দেওয়া হলো:

পা ব্যাথা


১. বিশ্রাম ও পা উঁচুতে রাখা

- *বিশ্রাম*: ব্যথার সময় বেশি হাঁটাহাঁটি বা দাঁড়িয়ে থাকার পরিবর্তে পা বিশ্রাম দিন।

- *পা উঁচুতে রাখা*: পা উঁচুতে রাখলে রক্ত সঞ্চালন ভালো হয় এবং ব্যথা কমে।


২. বরফ ও তাপ প্রয়োগ

- *বরফ প্রয়োগ*: ব্যথার স্থানে বরফ ২০-৩০ মিনিট ধরে লাগালে ব্যথা ও ফোলা কমতে পারে। দিনে ৩-৪ বার করতে পারেন।

- *তাপ প্রয়োগ*: বরফ প্রয়োগের কয়েক দিন পর তাপ প্রয়োগ করলে রক্ত সঞ্চালন বাড়ে ও ব্যথা কমে।


৩. ব্যথা নিরাময়ের ওষুধ

- *ওভার দ্য কাউন্টার পেইন রিলিভার*: ইবুপ্রোফেন বা প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধ ব্যথা ও ফোলা কমাতে সাহায্য করে। 

- *ডাক্তার দেখানো*: যদি ওভার দ্য কাউন্টার ওষুধে কাজ না হয়, তাহলে ডাক্তার দেখিয়ে প্রেসক্রিপশন ওষুধ নিতে পারেন।


৪. হালকা ব্যায়াম ও স্ট্রেচিং

- *স্ট্রেচিং*: নিয়মিত হালকা স্ট্রেচিং করলে পেশির নমনীয়তা বাড়ে ও ব্যথা কমে।

- *হালকা ব্যায়াম*: হাঁটা, সাঁতার বা সাইকেল চালানো মত হালকা ব্যায়াম করলে রক্ত সঞ্চালন ভালো হয় ও পেশির শক্তি বাড়ে।


৫. সঠিক জুতো পরা

- *আরামদায়ক জুতো*: আরামদায়ক ও ঠিক মাপের জুতো পরা খুব জরুরি। বিশেষ করে আরচ সাপোর্ট সম্বলিত জুতো পরলে ভালো হয়।

- *ইনসোল ব্যবহার*: বিশেষ ধরনের ইনসোল ব্যবহার করে পায়ের সাপোর্ট বাড়াতে পারেন।


৬. মালিশ ও ফিজিওথেরাপি

- *মালিশ*: ব্যথার স্থানে হালকা হাতে মালিশ করলে রক্ত সঞ্চালন বাড়ে ও ব্যথা কমে।

- *ফিজিওথেরাপি*: ফিজিওথেরাপিস্টের পরামর্শ নিয়ে থেরাপি করাতে পারেন, যা ব্যথা কমাতে সহায়ক হতে পারে।


৭. ওজন নিয়ন্ত্রণ

- *ওজন কমানো*: অতিরিক্ত ওজন পায়ের উপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে, যা ব্যথা বাড়ায়। স্বাস্থ্যকর খাবার ও নিয়মিত ব্যায়ামের মাধ্যমে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন।


৮. মেডিক্যাল পরীক্ষা

- *ডাক্তার দেখানো*: যদি ব্যথা দীর্ঘস্থায়ী হয় বা বাড়তে থাকে, তবে একজন অর্থোপেডিক বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত। ডাক্তার প্রয়োজনমত এক্স-রে বা অন্যান্য পরীক্ষার মাধ্যমে ব্যথার প্রকৃত কারণ নির্ণয় করে সঠিক চিকিৎসা দিতে পারেন।


এই পদক্ষেপগুলো অনুসরণ করলে দীর্ঘ দিন ধরে থাকা পা ব্যথা কমাতে সহায়তা পাওয়া যেতে পারে। তবে, যদি ব্যথা স্থায়ী হয় বা বাড়তে থাকে, তাহলে অবশ্যই একজন বিশেষজ্ঞ ডাক্তারকে দেখানো উচিত।

পা ব্যাথা (পার্ট - ২)

শরীরে উচ্চ মাত্রার কোলেস্টেরল হৃদরোগের অন্যতম কারণ। খারাপ কোলেস্টেরল ধমনীতে প্লেক তৈরি করে।কোলেস্টেরল একটি মোমযুক্ত পদার্থ, যা শরীরের সুস্থ কোষ তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় এক উপাদান। তবে যখন রক্তনালিতে অতিরিক্ত খারাপ কোলেস্টেরল বা চর্বি জমা হয়, তখন এটি ধমনীগুলো বন্ধ করে দেয়। তখন ধমনী দিয়ে রক্ত প্রবাহ কঠিন হয়ে যায়। যখন কোলেস্টেরল জমা হতে হতে বড় আকার ধারণ করে তখনই ঘটে হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের মতো ঘটনা। 

পা ব্যাথা


বংশে কোনো উচ্চ কোলেস্টেরলের রোগী থাকলে অন্যদের মধ্যেও এ সময় পরে দেখা দিতে পারে। এর ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে তোলে অস্বাস্থ্যকর খাবার, শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা, অতিরিক্ত ওজনসহ অস্বাস্থ্যকর জীবনধারা অনুসরণ করা। সবচেয়ে দুশ্চিন্তার বিষয় হলো, কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়লেও এর কোনো গুরুতর লক্ষণ তেমন প্রকাশ পায় না। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উচ্চ মাত্রার কোলেস্টেরল টের পাওয়া যায় পায়ের এক লক্ষণে।

এক্ষেত্রে পায়ে ব্যথা শরীরের উচ্চ কোলেস্টেরলের লক্ষণীয় সতর্কতা সংকেত। এ ছাড়াও উরু, নিতম্ব ও হাঁটুর ব্যথাও উচ্চ কোলেস্টেরলের সঙ্গে সম্পর্কিত।


এসব অংশে ব্যথা কেন হয়?

গবেষণায় দেখা গেছে, উচ্চ কোলেস্টেরলের কারণে রক্তনালিতে প্লেক জমা হয়। যা রক্তনালিকে সংকুচিত করে ও রক্ত প্রবাহকে সীমাবদ্ধ করে। ফলে পায়ের পেশিতে ব্যথা হয়।

এ কারণে সামান্য হাঁটাচলা কিংবা পরিশ্রমের কারণে রক্তের প্রবাহ কমে যায় ও যখন ব্যক্তি বিশ্রামে থাকে তখন তা সেরে যায়। এই লক্ষণে বুঝতে হবে আপনার শরীরের ওই পেশিগুলো কাজ করার জন্য পর্যাপ্ত রক্ত পাচ্ছে না।


কোলেস্টেরলের কারণে কেমন ব্যথা হয়?

পা, উরু, হাঁটু ও নিতম্বে সাধারণ ব্যথা হতে পারে এক্ষেত্রে। পায়ে ব্যথা হতে পারে এমনকি হাঁটাহাঁটি বা ছোটখাটো শারীরিক কার্যকলাপ করলেও। এছাড়া ব্যথা, ক্র্যাম্পিং, পায়ে অসাড়তা ও ক্লান্তি প্রায়ই ঘটলে সতর্ক হতে হবে।

এ ধরনের ব্যথা সাধারণত বিশ্রামের সময় চলে যায়। আবার পরিশ্রম হলে ফিরে আসে। চিকিৎসা পরিভাষায় একে বলা হয় ইন্টারমিটেন্ট ক্লোডিকেশন।


কোলেস্টেরল বেড়ে গেলে পায়ে আর কোন কোন লক্ষণ দেখা দেয়-

>> পায়ে জ্বালাপোড়া

>> পায়ের ত্বকের রং পরিবর্তন

>> পায়ে বা আঙুলে ঘা হওয়া

>> ঘন ঘন ত্বকের সংক্রমণ ইত্যাদি।

এসব লক্ষণ দেখলে দ্রুত আপনার কোলেস্টেরল পরীক্ষা করতে হবে।

কোলেস্টেরলের আদর্শ মাত্রা কত?

যদি মোট কোলেস্টেরল ২০০ এমজি/ডিএল এর নিচে হয় তাহলে তা স্বাভাবিক বলে বিবেচিত হয়। ২০০-২৩৯ এমজি/ডিএল এর মধ্যে কোলেস্টেরলের মাত্রা থাকা স্বাভাবিক।

তবে ২৪০ এমজি/ডিএল উচ্চ কোলেস্টেরলের মাত্রার ইঙ্গিত দেয়। ডায়াবেটিস ও হৃদরোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এলডিএল এর সর্বোত্তম মাত্রা ১০০ এমজি/ডিএল এর কম।


কোলেস্টেরল বেড়ে যাওয়ার কারণ কী?

উচ্চ কোলেস্টেরলের অন্যতম কারণ হলো অস্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রা। চর্বিযুক্ত খাবার খাওয়া, প্রক্রিয়াজাত খাবার খাওয়া, স্থূলতা, ধূমপান ও অ্যালকোহল পান করা জীবনধারা সম্পর্কিত কিছু কারণ যা শরীরে উচ্চ কোলেস্টেরলের জন্য দায়ী। আবার বংশগত কারণেও ঘটতে পারে। এজন্য পরিবারে কারও মধ্যে এ সমস্যা থাকলে আপনাকেও সতর্ক থাকতে হবে।


কোমড়ে ব্যাথা (তৃতীয় পার্ট)

 কোমরের ব্যথা রোগীর জন্য কিছু পরামর্শ

কোমড়ে ব্যাথা

০ কাজ করার সময় করসেট ব্যবহার করুন।
০ সব সময় শক্ত সমান বিছানায় ঘুমাবেন।
০ কোনো জিনিস তোলার সময় সোজা হয়ে বসে তুলবেন।
০ চেয়ারে বসার সময় ঘাড় ও পিঠ সোজা রেখে বসবেন।
০ ফোমের বিছানায় ঘুমাবেন না এবং ফোমের (নরম সোফা) সোফায় অনেকক্ষণ বসবেন না।
০ একই স্থানে বেশিক্ষণ দাঁড়িয়ে অথবা বসে থাকবেন না।
০ ঝুঁকে বা মেরুদণ্ড বাঁকা করে কোনো কাজ করবেন না।

০ ভারী কোনো জিনিস যেমন বেশি ওজনের থলি, পানিভর্তি বালতি ইত্যাদি বহন করবেন না।
০ পিঁড়িতে বসে কোনো কাজ যেমন মাছ কাটা, শাক-সবজি কাটা ইত্যাদি করবেন না।
০ টিউবওয়েল চেপে পানি ওঠাবেন না।
০ ঝরনায় অথবা সোজা হয়ে বসে তোলা পানি দিয়ে গোসল করবেন।
০ সিঁড়ি দিয়ে ওঠার সময় মেরুদণ্ড সোজা রেখে ধীরে ধীরে উঠবেন ও নামবেন।
০ হাই হিল জুতা ব্যবহার পরিহার করুন।

০ মোটা ব্যক্তিদের শরীরের ওজন কমাতে হবে।
০ যানবাহনে চড়ার সময় সামনের আসনে বসবেন কখনো দাঁড়িয়ে থাকবেন না।
০ ঘুম থেকে ওঠার সময় যেকোনো এক দিকে কাত হয়ে উঠবেন।

লেখক : বাত, ব্যথা ও প্যারালাইসিস বিশেষজ্ঞ এবং
অধ্যাপক, ফিজিক্যাল মেডিসিন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়

কোমড়ে ব্যাথা (দ্বিতীয় পার্ট)

শতকরা ৯০ ভাগ লোক জীবনের কোন না কোন সময়ে কোমর ব্যথায় ভোগে। স্বল্পমেয়াদি ব্যথা এক মাসের কম সময় থাকে এবং দীর্ঘমেয়াদি বা ক্রোনিক ব্যথা এক মাসের অধিক সময় থাকে। উপযুক্ত চিকিৎসা ব্যবস্থা গ্রহণ করলে ৯০% রোগী দুই মাসের মধ্যে ভালো হয়ে যায়।

কোমড়ে ব্যাথা

কোমর ব্যথার কারণ এবং ব্যথা দূর করার জন্য করণীয় সম্পর্কে আমরা কয়েকটি বিষয় এই লেখায় তুলে ধরেছি। আসুন জেনে নেওয়া যাক বিস্তারিত।


কোমর ব্যথার কারণ


১. লাম্বার স্পনডোলাইসিস: কোমরের পাঁচটি হাড় আছে। কোমরের হাড়গুলো যদি বয়সের কারণে বা বংশগত কারণে ক্ষয় হয়ে যায়, তখন তাকে লাম্বার স্পনডোলাইসিস বলে।

২. এলআইডি: এটিও শক্তিশালী একটি কারণ। এটি সাধারণত ২৫ থেকে ৪০ বছরের মানুষের ক্ষেত্রে বেশি হয়। মানুষের হাড়ের মধ্যে ফাঁকা জায়গা থাকে। এটি পূরণ থাকে তালের শাঁসের মতো ডিস্ক বা চাকতি দিয়ে। এই ডিস্ক যদি কোনো কারণে বের হয়ে যায়, তখন স্নায়ুমূলের ওপরে চাপ ফেলে। এর ফলে কোমরে ব্যথা হতে পারে।

৩. নন-স্পেসিফিক লো বেক পেন: অনির্দিষ্ট কারণে হাড়, মাংসপেশি, স্নায়ু—তিনটি উপাদানের সামঞ্জস্য নষ্ট হলে এই ব্যথা হয়। এটি যুবকদের মধ্যে বেশি হয়। এই ব্যথা পুরোপুরি সারানোর চিকিৎসা এখনো আবিষ্কার হয়নি। এই ব্যথা নিয়ে বিশ্বব্যাপী গবেষণা চলছে।


এ ছাড়া বিভিন্ন কারণে কোমরে ব্যথা হয়। যেমন : শিরদাঁড়ায় টিউমার ও ইনফেকশন হলে কোমরে ব্যথা হতে পারে। মাংসপেশি শক্ত হয়ে গেলে বা মাংসপেশি দুর্বল হয়ে পড়লে কোমরে ব্যথা হয়। শরীরের ওজন বেড়ে যাওয়ার কারণেও কোমরে ব্যথা হয়। একটানা হাঁটলে বা দাঁড়িয়ে থাকলে, কোলে কিছু বহন করলেও কোমরে ব্যথা হতে পারে।


কখন পরীক্ষা-নিরীক্ষার দরকার?


১. কিছু কিছু ক্ষেত্রে কোমরব্যথার কারণ গুরুতর হতে পারে। এ ক্ষেত্রে চিকিৎসকেরা কিছু বিপদচিহ্ন বা সতর্কসংকেত সন্ধান করেন। বয়স ২০ বছরের কম ও ৫০ বছরের বেশি হলে কোমরব্যথার কারণ অনুসন্ধান করা জরুরি।

২. ব্যথার ধরন বা তীব্রতা যদি সব সময় একই রকম থাকে বা ধীরে ধীরে বাড়তেই থাকে এবং বিশ্রাম নিলেও উন্নতি না হয়, সেটাকে বিপৎ সংকেত হিসেবে ধরে নিতে হবে।

৩. বড় কোনো আঘাতের ইতিহাস থাকলে, কোমরব্যথার পাশাপাশি বুকে ব্যথা হলে, রোগীর আগে কখনো যক্ষ্মা হয়ে থাকলেও বাড়তি গুরুত্ব দিতে হবে।

৪. ক্যানসার, অস্টিওপোরোসিস, এইডস, দীর্ঘকাল স্টেরয়েডজাতীয় ওষুধ সেবনের ইতিহাস থাকলে কোমরব্যথাকে অবহেলা করা চলবে না।

৫. ব্যথার পাশাপাশি জ্বর, শরীরের ওজন হ্রাস, অরুচি, অতিরিক্ত ঘাম ইত্যাদি উপসর্গ থাকলে এবং ব্যথাটা কোমর ছাড়িয়ে পায়ের দিকে—বিশেষ করে এক পায়ের হাঁটুর নিচ পর্যন্ত ছড়ালে অথবা এক পায়ে তীব্র ব্যথা বা অবশভাব হলে সতর্ক হতে হবে।

৬. প্রস্রাব বা পায়খানার সমস্যা, মলদ্বারের আশপাশে বোধহীনতা, মেরুদণ্ডে বক্রতা, পায়ের দুর্বলতা বা পায়ের মাংসপেশির শুষ্কতা ইত্যাদি উপসর্গকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। কোমরব্যথার সঙ্গে উল্লিখিত যেকোনো উপসর্গ থাকলে দ্রুত  চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।


লক্ষন

১. প্রথম দিকে এ ব্যথা কম থাকে এবং ক্রমান্বয়ে তা বাড়তে থাকে।

২. অধিকাংশ ক্ষেত্রে চিৎ হয়ে শুয়ে থাকলে এ ব্যথা কিছুটা কমে আসে। ­কোমরে সামান্য নড়াচড়া হলেই এ ব্যথা বেড়ে যায়।

৩. ব্যথার সঙ্গে পায়ে ব্যথা নামতে বা উঠতে পারে, হাঁটতে গেলে পা খিচে আসে বা আটকে যেতে পারে, ব্যথা দুই পায়ে বা যেকোনো এক পায়ে নামতে পারে। কোমরের মাংসপেশি কামড়ানো ও শক্ত ভাব হয়ে যাওয়া।

৪. প্রাত্যহিক কাজে, যেমন­ নামাজ পড়া, তোলা পানিতে গোসল করা, হাঁটাহাঁটি করা ইত্যাদিতে কোমরের ব্যথা বেড়ে যায়।


কোমরে ব্যথার সময় আর যা হয়


১. প্রথমে কোমরে অল্প ব্যথা থাকলেও ধীরে ধীরে ব্যথা বাড়তে থাকে। অনেক সময় হয়তো রোগী হাঁটতেই পারে না।

২. ব্যথা কখনও কখনও কোমর থেকে পায়ে ছড়িয়ে পড়ে। পা ঝিনঝিন ধরে থাকে।

৩. সকালবেলা ঘুম থেকে উঠে পা ফেলতে সমস্যা হতে পারে।

৪. পা অবশ ও ভারী হয়ে যায়। পায়ের শক্তি কমে যাওয়া।

৫. মাংসপেশি মাঝেমধ্যে সংকুচিত হয়ে যায়।


রোগনির্ণয়


১. কোমরের কিছু পরীক্ষা রয়েছে। ফরোয়ার্ড বন্ডিং পরীক্ষা, ব্যাকওয়ার্ড বন্ডিং পরীক্ষা।

২. নিউরোলজিক্যাল ডিফিসিয়েন্সি আছে কি না, তা নির্ণয় করা হয়।

৩. কোমরের এক্স-রে এবং এমআরআই করতে হবে।

৪. রক্তের বিভিন্ন ধরনের পরীক্ষা হয়। ক্যালসিয়ামের পরীক্ষা, ইউরিক এসিডের পরিমাণ, শরীরে বাত আছে কি না—এসব পরীক্ষা করতে হয়।

৫. ক্রনিক ব্যাক পেনের ক্ষেত্রে এইচএলএবি-২৭ পরীক্ষা করা হয়ে থাকে।


করণীয়


প্রাথমিক ক্ষেত্রে

১. সব সময় শক্ত সমান বিছানায় ঘুমাতে হবে। ফোমের বিছানায় ঘুমানো যাবে না এবং ফোমের নরম সোফায় অনেক্ষণ বসা যাবে না।

২. ঝুঁকে বা মেরুদণ্ড বাঁকা করে কোনো কাজ করবেন না।

৩. ঘাড়ে ভারী কিছু তোলা থেকে বিরত থাকুন। নিতান্তই দরকার হলে ভারী জিনিসটি শরীরের কাছাকাছি এনে কোমরে চাপ না দিয়ে তলার চেষ্টা করুন।

৪. নিয়মিত শারীরিক অর্থাৎ কায়িক পরিশ্রম করতে হবে। শারীরিক শ্রমের সুযোগ না থাকলে ব্যায়াম অথবা হাঁটার যতটুকু সুযোগ আছে তাকে কাজে লাগাতে হবে।


৫. মোটা ব্যাক্তির শরীরের ওজন কমাতে হবে। এবং সবার ক্ষেত্রেই সবসময় ওজন নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।

৬. একই জায়গায় বেশিক্ষণ দাঁড়িয়ে অথবা বসে থাকা যাবে না।

৭. ঘুমানোর সময় সোজা হয়ে ঘুমাতে হবে। বেশি নড়া-চড়া করা যাবে না। ঘুম থেকে ওঠার সময় যেকোনো একদিকে কাত হয়ে উঠার চেষ্টা করতে হবে।


গুরুত্বর অবস্থায়



১. অবশ্যই একজন বিশেষজ্ঞ  চিকিৎসকের পরামর্শমতো ওষুধ সেবন করতে হবে।

২. চিকিৎসা ব্যবস্থার পাশাপাশি  চিকিৎসকের দ্বারা রোগীকে ইলেকট্রোম্যাগনেটিক রেডিয়েশন, আল্ট্রাসাউন্ড থেরাপি, লাম্বার ট্রাকশন ও বিভিন্ন ব্যায়াম করাতে হবে।

৩. দীর্ঘদিন মেডিসিন চিকিৎসা চালানোর পরও রোগীর অবস্থার পরিবর্তন না হয় রোগীকে অবস্থা অনুযায়ী কোমর-মেরুদন্ডের অপারেশন বা সার্জারীর প্রয়োজন হয়।


চিকিৎসা

১. হালকা ব্যথা হলে অবহেলা না করে ওষুধ এবং পূর্ণ বিশ্রাম নিতে হবে। কোমরে গরমভাপ দিলে উপকার পেতে পারেন। কোমর ব্যথার বিভিন্ন মলম ব্যবহার করতে পারেন। তবে মালিশ করা যাবে না।

২. ব্যথা তিন দিনের বেশি স্থায়ী হলে অবশ্যই একজন ফিজিওথেরাপিস্ট কিংবা নিউরোলজিস্টের পরামর্শ নিতে হবে। ব্যথা তীব্র হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী হাসপাতালে ভর্তি থেকে ফিজিওথেরাপি নিতে হয়। এ ক্ষেত্রে তিন-চার সপ্তাহ পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি রাখা হতে পারে।

৩. আর কম ব্যথা হলে আউটডোর ফিজিওথেরাপি দেওয়া হয়ে থাকে। অনেকেই কোমর ব্যথা হলে বিভিন্ন ব্যথানাশক ওষুধ খেয়ে ফেলে। এটা একেবারে ঠিক নয়। বিভিন্ন কারণে কোমরে ব্যথা হতে পারে। তাই  চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ওষুধ সেবন করা প্রয়োজন।

৪. ফিজিওথেরাপি বিশেষজ্ঞদের মতে, এখনও এমন ওষুধ তৈরি হয় নাই যে ওষুধ খেলে আপনার মাংস পেশী লম্বা হবে, শক্তিশালী হবে এবং আপনার জয়েন্ট মবিলিটি বেড়ে যাবে।

তবে ফিজিওথেরাপি বা এক্সারসাইজ- ইজ এ মেডিসিন যা আপনাকে উক্ত কষ্টগুলো থেকে মুক্তি দেবে। সুতারাং সম্পূর্ণ চিকিৎসা পেতে হলে আপনাকে সঠিক মোবিলাইজেশন, মেনুপুলেশন, স্ট্রেচিং এবং স্ট্রেন্দেনিং এর মতো চিকিৎসা করতেই হবে। 

কোমরে ব্যথা (প্রথম পার্ট)

দীর্ঘ দিন ধরে কোমরে ব্যথায় করণীয় বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা যেতে পারে। নিচে কিছু উপায় দেওয়া হলো যা আপনি অনুসরণ করতে পারেন:

কোমড়ে ব্যাথা (প্রথম পার্ট)

১. শারীরিক ক্রিয়াকলাপ ও ব্যায়াম

- *নিয়মিত ব্যায়াম*: কোমরের ব্যথা কমাতে এবং প্রতিরোধ করতে নিয়মিত হালকা ব্যায়াম করুন। বিশেষত কোমরের মাংসপেশি শক্তিশালী করার জন্য ব্যায়াম করুন যেমন পিলেটস, যোগ ব্যায়াম, এবং অন্যান্য স্ট্রেচিং এক্সারসাইজ।

- *ওয়াকিং ও সাঁতার কাটা*: হালকা ওয়াকিং বা সাঁতার কাটা কোমরের ব্যথা কমাতে সহায়তা করতে পারে।


২. সঠিক অবস্থানে বসা ও শোয়া

- *সঠিক ভঙ্গি*: সঠিক ভঙ্গিতে বসা এবং শোয়া কোমরের ব্যথা কমাতে গুরুত্বপূর্ণ। পিঠ সোজা রেখে বসুন এবং কম্পিউটারের সামনে কাজ করার সময় কোমরের পেছনে সমর্থন রাখুন।

- *উপযুক্ত ম্যাট্রেস*: ঘুমানোর সময় একটি সাপোর্টিভ ম্যাট্রেস ব্যবহার করুন যাতে কোমরের উপর অতিরিক্ত চাপ না পড়ে।


৩. চিকিৎসা ও থেরাপি

- *ফিজিওথেরাপি*: একজন ফিজিওথেরাপিস্টের সাথে পরামর্শ করে নির্দিষ্ট ব্যায়াম ও থেরাপি করতে পারেন যা আপনার ব্যথা কমাতে সহায়ক হবে।

- *ম্যাসাজ থেরাপি*: নিয়মিত ম্যাসাজ থেরাপি পেশির উত্তেজনা কমাতে ও রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি করতে পারে।

- *চিরোপ্রাকটিক চিকিৎসা*: একজন চিরোপ্রাকটরের কাছে গিয়ে চিকিত্সা করিয়ে নিতে পারেন, যারা স্পাইনাল এডজাস্টমেন্ট ও অন্যান্য কৌশল ব্যবহার করে ব্যথা কমাতে পারেন।


৪. ঔষধ ও সাপ্লিমেন্ট

- *ব্যথা নাশক ঔষধ*: প্রয়োজন হলে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যথা নাশক ঔষধ গ্রহণ করতে পারেন, যেমন NSAIDs (ইবুপ্রোফেন, ন্যাপ্রক্সেন)।

- *সাপ্লিমেন্ট*: ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ডি, এবং ম্যাগনেসিয়ামের মতো সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করুন, যা হাড়ের স্বাস্থ্যের জন্য প্রয়োজনীয়।


৫. ঘরোয়া চিকিৎসা

- *গরম বা ঠান্ডা সেঁক*: গরম বা ঠান্ডা সেঁক ব্যবহার করে কোমরের ব্যথা কমাতে পারেন।

- *আরাম*: অতিরিক্ত শারীরিক চাপ থেকে বিরত থেকে কিছু সময় বিশ্রাম নিন।


৬. জীবনধারা পরিবর্তন

- *ওজন নিয়ন্ত্রণ*: ওজন কমিয়ে রাখুন যাতে কোমরের উপর অতিরিক্ত চাপ না পড়ে।

- *মানসিক চাপ কমানো*: মানসিক চাপ কমানোর জন্য মেডিটেশন, ডিপ ব্রিদিং এক্সারসাইজ, এবং অন্যান্য স্ট্রেস ম্যানেজমেন্ট কৌশল গ্রহণ করুন।


৭. চিকিৎসকের পরামর্শ

- *ডাক্তারের পরামর্শ*: যদি দীর্ঘমেয়াদী কোমরের ব্যথা থেকে যায় বা যদি ব্যথা বেশি তীব্র হয়, তবে অবশ্যই একজন চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে রেফার করা হতে পারে।


আপনার কোমরের ব্যথা কমাতে উপরের পদক্ষেপগুলো অনুসরণ করতে পারেন এবং প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে ভুলবেন না।

পা ব্যাথা (পার্ট - ৪)

পা মানব শরীরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। যার পা নেই সেই বুঝে পায়ের মর্মকথা। পায়ের গোড়ালিতে যেসব কারণে ব্যথা হয় তার মধ্যে প্লান্টার ফ্যাসাইট...